বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
গাজীপুরে চোরাই গরু উদ্ধার করে বিপাকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ আদর্শ ইসলামিক ক্যাডেট স্কুলের অভিভাবক সমাবেশ, ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই শ্মশানে পাশাপাশি চিতা বকশীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ! পঞ্চগড় পৌরসভায় ২৭টি ডাস্টবিন বিতরণ তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ, পঞ্চগড়ে ক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা পঞ্চগড়ে সুইসগেট ভাঙার এক বছরেও হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান শিবরাম স্কুলের নুহা বকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দবকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ লালমনিরহাটে থ্যালাসেমিয়া ও ক্যান্সার রোগীদের আজীবন ফ্রি রক্ত দেবে ‘বিডিএসএল’
শিশু ধর্ষণ মামলায় ৮ বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে, গোপনে জাবি ছাত্রীদের ছবি তুলে আটক যুবদল নেতা

শিশু ধর্ষণ মামলায় ৮ বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে, গোপনে জাবি ছাত্রীদের ছবি তুলে আটক যুবদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট :: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার সময় আটক হওয়া ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও একটি আলোচিত ধর্ষণ মামলা রয়েছে। ২০১৮ সালে ঢাকার ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল তাকে।


‎
‎জানা যায়, গতকাল (২ জুলাই) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা। পরে তিনি লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযোগ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে মুচলেকা দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যানও উদ্ধার করা হয়, যা পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
‎
‎তবে দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া এক মামলায় অভিযোগ করা হয়, এক নারী সহযোগীর মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে একটি গুদামঘরে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। ওই মামলায় দেবাশীষ চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।


‎
‎তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পাঁচ দিন পরও প্রধান আসামি দেবাশীষ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল এবং মামলার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
‎
‎প্রায় আট বছর পর একই ব্যক্তি আবারও নতুন অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন। এবার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলা। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা না করে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং বিষয়টি পুনর্তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


‎
‎এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, এখনো প্রক্টর আমাদের কাছে আবেদনপত্রটি পাঠাননি। আবেদন পত্রটি হাতে পেলে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো।
‎
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগের ঘটনা দুটির মধ্যে একটির অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদিও এ ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যারাসমেন্ট সেল রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির মুখে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করে।
‎


‎তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরাই লিখিত মুচলেকা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সম্মতির ভিত্তিতেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
‎
‎মদ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে মাদকের প্রসঙ্গ তুলছেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী মামলা করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলামত থাকতে হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি বিয়ারের ক্যান সেই পরিমাণের মধ্যে পড়ে না। এছাড়া তাকে সরাসরি মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়নি এবং বিয়ারের ক্যানও তার পকেট থেকে নয়, বহন করা ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
‎
‎পুনর্তদন্তের প্রসঙ্গে সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আমরা আবেদনটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


‎
‎দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমরা বিষয়টি জানতাম না। এটি রাষ্ট্রের বিষয়, অভিযুক্তের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশকে জানানো হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য থাকলে সেটিও যাচাই করা হবে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, ২০১৮ সালের ঘটনার কোনো নথি এখন থানায় পাবেন না। ৫ আগস্টের সময় থানার রেজিস্টারসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তবে তার নামে ২০১৮ সালের একটি ধর্ষণ মামলা আছে, এটা আমি জানি। অনেক সাংবাদিকও মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে ফোন করেছেন। মামলার বর্তমান পরিস্থিতি জানতে আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ২০১৮ সালে মামলা থানা থেকে আদালতে পাঠানোর পর পরবর্তী সব কার্যক্রম আদালতের এখতিয়ারেই রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, তার নামে একটি মামলা রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com